১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা সরকারের: জোনায়েদ সাকি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, দেশে গ্যাসের অনেক উৎস রয়েছে। সরকার এসব উৎস কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে। স্থলভাগে (অনশোরে) মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রাঞ্চলে (অফশোরে) গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে এ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল রয়েছে। এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণশিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন।
তিনি বলেন, বন্দরগুলোর সাথে দেশের উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে শুধু সড়ক যোগাযোগ নয়, রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাও জরুরি।
তিনি জানান, আইইউবি ও বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি খাতের উদীয়মান শিল্প নিয়ে পরিকল্পনাগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইাকোনোমি) আওতায় নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। তিনি বঙ্গোপসাগর, সুনীল অর্থনীতি এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)