ইউরোপে দক্ষ কর্মী পাঠাতে ইইউর সাথে মাহ্দী আমিনের আলোচনা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ইইউর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।
বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ ও ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো এবং প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক জোরদারে অভিবাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার পাশাপাশি বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন ড্রেইন’ বা মেধাপাচারকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের উপায় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের পথ সুগম করতে ইইউ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক হেনরিক নীলসেন ও ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং সংস্থাটির একজন ফার্স্ট কাউন্সেলর উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)