Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজে যুক্ত হবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজে যুক্ত হবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য

ছবিঃ বাসস

দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে ডাটাবেজ প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ডাটাবেজের ভিত্তিতে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করে ভাতা দেয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে সরকারি দপ্তর কিংবা কোনো ব্যক্তির কাছে ধরনা দিতে হবে না।

যোগ্য পরিবার বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। তথ্য সংগ্রহের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার ধরে সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্য থেকে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ভাতা পাওয়ার উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য পরিবারকে সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে ব্যয় করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কার্ডে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। এটি সরকারের ‘টাকা পে’ পেমেন্ট স্কিমের সাথে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে সুবিধাভোগী নারীরা যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পিওএস মেশিন কিংবা বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নিজেদের সুবিধামতো ভাতা তুলতে পারবেন।

ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সে জন্য অভিযোগ ও আপিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কেন্দ্র থেকে অনলাইন ও অফলাইনে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস ব্যবস্থার সাথে সংগৃহীত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নে নিয়মিত গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন