Logo
×

Follow Us

জাতীয়

নারীস্বাস্থ্যে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

নারীস্বাস্থ্যে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জুবাইদা রহমানের

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশে নারীস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সহজ শর্তে অর্থায়ন, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।

রবিবার জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান নারীস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়ে বাংলাদেশ নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা জরুরি।

নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীস্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সরকারের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার মতো উদ্যোগও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। পাশাপাশি ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং নারীদের জন্য দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরাও যেন নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পান, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

জুবাইদা রহমান বলেন, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর জীবন বাঁচানো ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক উদ্যোগ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গঠনে ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের নারীর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে জানান জুবাইদা রহমান।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অংশীদারত্বের জন্য জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মেয়ের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি মায়ের নিরাপদে সন্তান জন্ম দেয়ার অধিকার রয়েছে। একইভাবে শহর ও গ্রামের প্রত্যেক নারীর দীর্ঘ, সুস্থ ও উৎপাদনশীল জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উন্নয়ন সহায়তার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে। নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতে বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে-ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিনের প্রতিনিধিদের সাথেও বৈঠক করেন তাঁরা।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর অর্থায়ন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে চুক্তি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।

মন্তব্য করুন