Logo
×

Follow Us

জাতীয়

দক্ষ কর্মী পাঠাতে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

দক্ষ কর্মী পাঠাতে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ছবি: পিআইডি

ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের বৈধ প্রবেশ সহজ করা এবং অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ নেয়া প্রায় ৭৫০ কর্মীর ইউরোপীয় সনদসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে ইইউর স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক যাত্রী তথ্যব্যবস্থা চালু এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার বন্ধ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসন কমিয়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার। অবৈধ অভিবাসন কমানো গেলে বৈধ পথে বাংলাদেশি কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ আরো সহজ হবে।

বৈধ অভিবাসন বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭৫০ দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সনদসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ প্রস্তাবে ইইউ প্রতিনিধিদল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরে যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধী শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থা ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে। অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে এর প্রভাব আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে ইইউর সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস, ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনাসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন