স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না: চিফ হুইপ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ছবিঃ বাসস
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া। জনগণের ভোটে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম বা অপকর্মে জড়ালে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের আয়োজনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংসদ সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যোগ্য ও জনসমর্থন রয়েছে এমন ব্যক্তিরা নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য বজায় রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
চিফ হুইপ আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, জনগণের ভোটে যিনি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তার নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নূরুল ইসলাম আরো বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সরকার এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে শ্রমিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, সংসদীয় দলের এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তাঁদের এলাকার সমস্যা শুনেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা এবং দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)