Logo
×

Follow Us

জাতীয়

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস

সংগৃহীত ছবি

বাতজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে অস্থিসন্ধি ও পেশি-হাড়ের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, চিকিৎসা এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হচ্ছে।

ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজি (ইউলার) সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস চালু হয়। বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

আর্থ্রাইটিস মূলত অস্থিসন্ধির প্রদাহ এবং এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের সমষ্টিগত নাম। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্তভাব দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক চলাফেরা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়ায় সমস্যা হয়। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্থিসন্ধিতে শক্তভাব ও ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে।

রোগের ধরন অনুযায়ী আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ ও জটিলতা ভিন্ন হয়। সাধারণ ধারণার বিপরীতে, এ রোগ শুধু বয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিশু-কিশোর ও তরুণদেরও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে। যথাসময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব কিংবা শক্তভাব থাকলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং অস্থিসন্ধির ক্ষতি কমানো সম্ভব। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও জীবনমান বজায় রাখার সুযোগ বাড়ে।

আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা রোগের ধরন, তীব্রতা ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নির্ধারিত চিকিৎসা নিয়মিত অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন বা চলমান চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়।

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের মূল বার্তা হলো, জয়েন্টের ব্যথাকে কেবল বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে অবহেলা না করা। রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসচেতনতা আর্থ্রাইটিসজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

মন্তব্য করুন