Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

উচ্চ আদালত।

বিয়ের শর্ত হিসেবে নয়, বরং ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুসারে রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চান রাসেল। টাকা দিতে না পারায় কাঠের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি।

আপিলের শুনানিতে হাইকোর্ট ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারায় যৌতুকের সংজ্ঞা বিবেচনায় নেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের অর্থ কিংবা সম্পত্তি দাবি করলেই তা যৌতুকের আওতায় পড়ে। কিন্তু এ মামলায় বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অর্থ দাবির উদ্দেশ্য হিসেবে আসামির ব্যবসার কথা উঠে এসেছে। ফলে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ দাবিকে যৌতুক হিসেবে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্যের অসংগতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বাদী তার জবানবন্দিতে ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাতের কথা বললেও চিকিৎসকের বক্তব্য এবং হাসপাতালের মেডিকেল সনদে বাম কাঁধে আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়। আঘাতের স্থান নিয়ে এই অমিল নির্যাতনের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে বলে আদালত বিবেচনা করেন।

এসব বিষয় পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মামলাটিকে সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে নিম্ন আদালতের দেয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করে রাসেল উদ্দিনকে খালাস দেন।

মন্তব্য করুন