Logo
×

Follow Us

জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর

 

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চুল্লির সব কার্যক্রমের পরিমাপক নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে। বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ব্যবহার করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি। এতে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা গেছে। এরপর শুরু হয়েছে ‘বি-২’ পর্যায়, যেখানে প্রাথমিক কার্যক্রমের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়।

এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু করা। এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী ধাপগুলোতে নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা যাচাই করে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের উৎপাদন ধাপে ধাপে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হলে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। রূপপুর কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন