দেশের স্বার্থে সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার : নৌপরিবহনমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ছবিঃ বাসস
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এ কৌশলে সমুদ্র, নদী ও স্থলবন্দরের কার্যক্রমে সমন্বয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, বিভিন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ প্রয়োজন বিবেচনায় একটি সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার আইনগত দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব উপেক্ষা করা যাবে না। বরং বিদ্যমান কাঠামো বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
শেখ রবিউল আলম জানান, এ উদ্যোগে জাইকা ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক বন্দর ব্যবস্থাপনার চর্চা কাজে লাগিয়ে কার্যকর কৌশলপত্র তৈরির আশা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা দেশের বন্দর পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে বিনিয়োগের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বন্দরের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কনটেইনার পরিচালনা, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা আমদানি-রপ্তানি সহজ করার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করবে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
জাতীয় বন্দর কৌশলকে কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সব পক্ষকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একটি কার্যকর বন্দর কৌশল প্রণয়ন সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)