Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ছবিঃ পিএমও

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সরকার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্পটির প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি জানান।

প্রদর্শনীতে প্রকল্পের গবেষকেরা উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রকল্পটির কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়।

প্রকল্পের প্রধান গবেষকদের একজন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তিগত দিক ও গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

গবেষকদের তথ্যমতে, প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে।

প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয়, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে।

গবেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের আগে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের আশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পরিবেশদূষণ হ্রাস, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির সফল বাণিজ্যিক বাস্তবায়নের ওপর।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন