Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সমঅধিকারই হবে সবার পরিচয়: মাহ্দী আমিন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

সমঅধিকারই হবে সবার পরিচয়: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা থাকলেও সবার সম্মিলিত পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্য বা বিভেদের শিকার হবেন না। প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকবেন এবং দেশের উন্নয়নে সমানভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, মহালয়া নতুন আশার প্রতীক। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় এ উৎসব। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সত্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। উৎসবের আনন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বী সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের জনগণ। মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতাই জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহ্দী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ অন্য অতিথিরা।

মন্তব্য করুন