বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে লিথুয়ানিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান শামার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
ছবি: মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমান্তাস ভারবিকাসের সাথে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শামা বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগগুলো তুলে ধরে দুই দেশের পারস্পরিক কল্যাণকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন উদীয়মান খাতগুলো অনুসন্ধানে লিথুয়ানিয়ার ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেন।
তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ, জীবাণুবিয়োজ্য পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র এবং প্লাস্টিকজাত পণ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়া ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এ সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করতে দুই দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যার লক্ষ্য বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেয়া।
বৈঠকে শিক্ষা, জনমিতিক সুবিধা, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
শামা সফট ডিপ্লোম্যাসির পরিসর বাড়ানো এবং জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে।
উচ্চপর্যায়ের সফর, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
দুই পক্ষ যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময় বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক দল ও ক্রীড়া দলের সফর, পর্যটন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
তারা মত প্রকাশ করে যে, যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-লিথুয়ানা সম্পর্কের অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)