Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ডিসেম্বরের মধ্যেই গঙ্গা চুক্তির আশা পানিসম্পদমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

ডিসেম্বরের মধ্যেই গঙ্গা চুক্তির আশা পানিসম্পদমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

ভারতের সাথে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে চলছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জেআরসির মাধ্যমে দুই দেশের বৈঠক চলছে এবং উভয় দেশের কারিগরি দল চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে। কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শেষে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে চুক্তির বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

গঙ্গা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা গ্যারান্টি ক্লজ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করা হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য নতুন চুক্তি হলেও তাতে ওই গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হয়নি।

নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে সময় প্রয়োজন। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে একই বছর প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে ভারতের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প উল্লেখ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। প্রকল্পটি দৃশ্যমান করতে ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হতে পারে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজের ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়েছিল। তবে এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে স্টাডি পুনরায় চূড়ান্ত করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক-দুই সপ্তাহ বা এক-দুই মাসে এ ধরনের প্রকল্পের স্টাডি শেষ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন