Logo
×

Follow Us

জাতীয়

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ দ্রুত সরবরাহের আহ্বান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ দ্রুত সরবরাহের আহ্বান

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের সংকট কাটাতে ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য এয়ারবাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে এয়ারবাসের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিমানের বর্তমান বহরে উড়োজাহাজের ঘাটতির কারণে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে ২০২৮ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার সাথে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের আকাশপথের যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশের অংশ প্রায় ২০ শতাংশ, আর বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে যাতায়াত করেন বলে জানান তিনি।

বিমানের জন্য এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগকে বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার মতে, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিমান পরিচালনা আরো কার্যকর করা সম্ভব হবে।

বিমানকে আন্তর্জাতিক মানের একটি শক্তিশালী এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করলেই সেবার মান উন্নত হবে না। কর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপরও বিমানের ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও উঠে আসে। কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুরোনো বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের ২০২৬ সালের ১৭ জুলাইয়ের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বিমানের পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগকে এগিয়ে নেবে।

মন্তব্য করুন