Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বিএনপি সরকারের সাত মাসে দেশে ৩২ কূপে বাড়ল গ্যাস উৎপাদন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ এএম

বিএনপি সরকারের সাত মাসে দেশে ৩২ কূপে বাড়ল গ্যাস উৎপাদন

বিএনপি সরকারের সাত মাসে দেশে ৩২ কূপে বাড়ল গ্যাস উৎপাদন। ছবিঃ বাসস

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে গত সাত মাসে ৩২টি কূপের খননকাজ শেষ করেছে সরকার। এসব কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি, বাপেক্সের ১১টি এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ রয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়ার প্রাথমিক সম্ভাবনা থাকলেও হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় মোট সরবরাহ প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফে দাঁড়িয়েছে।

তবে নতুন কূপগুলো থেকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা জাতীয় গ্রিডে নেওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলার রিজার্ভার অ্যান্ড ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে আরো সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলো হলো রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ শেষ হলে কূপগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আরো নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরো চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তবে নতুন কূপে গ্যাস পাওয়ার পর দ্রুত তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পাইপলাইন ও প্রসেসিং অবকাঠামোর অভাবে উৎপাদিত গ্যাস অব্যবহৃত থাকলে অনুসন্ধান ও খননের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে আসছে। নতুন কূপ চালু হওয়ায় রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানিগুলোর সরবরাহও বেড়ে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ হয়েছে।

স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করা হয়েছে। একই সাথে সম্ভাবনাময় এলাকায় নতুন কূপ খননের জন্য জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজও চলছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হলে দেশে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভরতার চাপও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: বাসস

মন্তব্য করুন