সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি)। মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে পরিষদে প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাব গৃহীত হলো।
জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মঙ্গলবার জানায়, মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত কোর গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। এতে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপাল রয়েছে।
‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটিকে এআই ও মানবাধিকারের দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো এআইয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর কারণে মানবাধিকারের ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকি ও প্রভাব বিবেচনায় রেখে একটি মানবাধিকারকেন্দ্রিক নীতি কাঠামো গড়ে তোলা। এতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উন্নয়নের সঙ্গে মানবিক মর্যাদা এবং ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এ উদ্যোগে পেনহোল্ডারের দায়িত্ব পালন করে। গত আগস্টে কোর গ্রুপের পক্ষে প্রস্তাবটির ধারণা মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় প্রথম উপস্থাপন করা হয়।
এরপর কোর গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ও অংশীজনের সাথে আলোচনা করে প্রস্তাবটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। বাংলাদেশ জানিয়েছে, এআই সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্রুত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এর উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।
প্রস্তাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সুফল যাতে বিশ্বের সব দেশের মানুষ সমানভাবে পেতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণকে প্রস্তাবটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এআইয়ের সুবিধা গ্রহণে দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের নেতৃত্বে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। একই সাথে উদীয়মান বৈশ্বিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো দৃশ্যমান হলো।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)