Logo
×

Follow Us

জাতীয়

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প আজ একনেকে উঠছে

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প আজ একনেকে উঠছে

সংগৃহীত ছবি

দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’টি বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তরের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তার ভাষ্য, রামপালের এই প্রকল্প দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ২ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ১৬ বছর। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

রামপালের ‘ব্লক-বি’ এলাকায় ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। জমিটি আগে থেকেই বিপিডিবির মালিকানায় থাকায় নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এতে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময়—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা হবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

কেন্দ্রটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হবে। প্রকল্পে ৬৪০ ওয়াট-পিক বা তার বেশি ক্ষমতার সৌর ফটোভোলটাইক মডিউল, ৩৬০ মেগাওয়াটের গ্রিড-টাইড ইনভার্টার, একটি পুলিং সাবস্টেশন এবং তিন কিলোমিটার ২৩০ কেভি ডাবল-সার্কিট সঞ্চালন লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সৌর প্যানেল ও মাউন্টিং স্ট্রাকচার কেনায়। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার, এসসিএডিএসহ (SCADA) বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হবে ৭৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশের অন-গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৭৯৭ মেগাওয়াট।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎসনির্ভর করার লক্ষ্য অর্জনেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।

রামপালের মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি ২০১২ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি। এর মধ্যে ৯১৫ দশমিক ৫০ একর ‘ব্লক-এ’তে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৯১৮ দশমিক ৫০ একর ‘ব্লক-বি’তে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই এলাকায় ভূমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রকল্প কার্যালয়ে ২৫ জন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় ২০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রটি চালু হলে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ২৬১ জনের কর্মসংস্থান হবে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) পরিচালিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এটি অননুমোদিত ‘সবুজ পাতা’ প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পিইসি’র সুপারিশে বাস্তবায়নকাল কমানোর ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের মূল প্রস্তাবের তুলনায় প্রকল্প ব্যয়ও ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা কমেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, আর্থিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য। পাশাপাশি সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত করার এসডিজি-৭ লক্ষ্য এবং দেশের পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মন্তব্য করুন