Logo
×

Follow Us

জাতীয়

চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষার সাথে ক্রীড়াচর্চাকে সম্পৃক্ত করে দেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার ক্রীড়া ও খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে। একই সাথে দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলা ও নিয়মিত ক্রীড়াচর্চাকে আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবার বড় পরিসরে জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি—এই চারটি ইভেন্টে উপজেলা, জেলা, উপ-অঞ্চল ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা বা জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, নৈতিকতা ও দলগতভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার মানসিকতাও খেলার মাঠ থেকেই গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ক্রীড়াকে শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও শারীরিক সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।

মাহ্দী আমিন আরো জানান, শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নতুন ধারার ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষার কার্যক্রম আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে এসেছে। এই পর্যায়ে পৌঁছানো প্রত্যেক প্রতিযোগীই ইতোমধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। জয়-পরাজয়ের বাইরে প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনেও কাজে লাগবে।

বিভিন্ন ইভেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দাবা শিক্ষার্থীদের কৌশল ও দূরদৃষ্টি বাড়ায়, হ্যান্ডবল দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি করে, সাঁতার প্রতিকূলতা অতিক্রমের সাহস জোগায় এবং কাবাডি জাতীয় ঐতিহ্য, সাহস ও ক্ষিপ্রতার সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়।

তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের দক্ষ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। একই সাথে প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ১১টি শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইমদাদুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন