রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান ঢাকার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি: মন্ত্রণালয়
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) চেয়ারম্যান আফসানা বেগম এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেনও ছিলেন। সফররত প্রতিনিধিদলের আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করছে। তাই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ কমাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল। তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নিজ ভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এপিপিজির ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এপিপিজি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে আরো তুলে ধরতে গ্রুপটির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)