বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশে সমন্বয়ের চিন্তা করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবিঃ বাসস
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে দীর্ঘ সময় থাকলে বাংলাদেশেও এর মূল্য পুনর্নির্ধারণের কথা বিবেচনা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ কথা জানিয়েছেন।
দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই সরকার এর আগে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমে তা টেকসইভাবে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালনের আট মাসের পর্যায়ে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার পাশাপাশি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিশ্চিত হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও কমতে পারে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অটোরিকশা চালকদের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। তবে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখা কিংবা বিদ্যুৎ খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরির যেকোনো উদ্যোগ আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মিরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনই প্রয়োগ করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট বা বিশেষ অভিযানের পরিবর্তে আইনি কাঠামোর মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থকে সামনে রেখেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিস্তা প্রকল্পে নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্ষার পানি সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দেশের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শুধু অভিযান কিংবা আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যাতে যৌক্তিক মূল্য পান এবং বাজারে পণ্য সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে পণ্যের দামও স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে নিম্নআয়ের মানুষের চাপ কমাতে ভিজিএফ কর্মসূচিতে চালের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজি চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)