প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিতের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শিশুদের সম্ভাবনা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে পারবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা প্রকাশের জন্য শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত হলেই শিশুরা নতুন উদ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে শিশু একাডেমির পাঁচ দশকের কার্যক্রমও। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে শিশু একাডেমির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, গত পাঁচ দশকে প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।
শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।
শিশু একাডেমিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছেও পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরু বিস্তৃত পরিসরে শিশুদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতেও শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শিশু একাডেমি কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সব বাধা অতিক্রম করে তাদের নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হবে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা প্রকাশের জন্য প্রয়োজন সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ।
তিনি বলেন, নিরাপদ শৈশব ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই শিশুদের জন্য সবার প্রত্যাশা। শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তারা শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র গ্যালারি ঘুরে দেখেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)