শিশুর প্রতিভা বিকাশে সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পিএম
ছবিঃ পিএমও
প্রতিটি শিশুর ভেতর কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকশিত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও সৃজনশীল নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর বিকাশ শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারও ছবি আঁকার দক্ষতা, কারও কবিতা আবৃত্তি, কারও গান বা বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহ, আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী হতে পারে। তাই প্রত্যেক শিশুকে নিজের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনায় ভালো করলেই হবে না; খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতের মতো ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে হবে। তাঁর মতে, শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে পরিবার যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি দেশের ভিত্তিও আরো মজবুত হবে।
শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২২ লাখ শিশু এতে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে।
এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদেরও আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ দিতে স্কুল পর্যায় থেকে কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, শিশুদের জন্য গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল বিষয়ে পছন্দ অনুযায়ী একটি ক্ষেত্র বেছে নেয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। এ কার্যক্রম ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিসহ বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির কথা জানান তিনি। তার মতে, তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে শিশুদের বাড়তি সক্ষমতা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ভাষাজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রকৃতি, পশুপাখি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতিও শিশুদের সহানুভূতিশীল হতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বড়দের কেউ যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে বিনয়ের সাথে তা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অনুরোধ করতে শিশুদের উৎসাহিত করেন।
অভিভাবকদেরও সন্তানদের মধ্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মানবিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে পরিবেশনায় অংশ নেয়া শিশুদের সাথে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে শিশু জাদুঘর ভবনে গিয়ে নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)