Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জ্বালানি সংকটে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ এএম

জ্বালানি সংকটে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট নিরসনে এরই মধ্যে নেয়া উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় এলপিজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশে নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চলমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিমাণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ, সরকারি অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাতি বন্ধ রাখার নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দ্রুত কমে আসায় নিজস্ব জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের সম্মতি পাওয়া গেলে ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে ৩০০ একর এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জেও কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের আয়-রোজগার, বসতি ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানেও কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রে এখন পর্যন্ত ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ও তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়। আরও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা।

স্থলভাগে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে।

জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে রুফটপ সোলার অন্যতম কার্যকর সমাধান হতে পারে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বড় শিল্পকারখানাতেও সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও দেয়া হয়েছে।

এদিকে চারটি দেশের সাথে বাংলাদেশের আটটি এলএনজি আমদানি চুক্তি রয়েছে। চলতি বছরে এসব চুক্তির আওতায় ১০৩টি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও প্রথম নয় মাসে দেশে এসেছে মাত্র ২১টি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে অনেক কার্গো না আসায় স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস ও বিকল্প জ্বালানি উৎস বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন