Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

ছবিঃ পিএমও

সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য নয়; বরং নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, পয়ঃনিষ্কাশন, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক সুবিধাসম্পন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও আবাসন পরিকল্পনার অংশ।

সোমবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ আবাসন নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি বাসস্থানের সাথে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বসতি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে এগোতে হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জনসংখ্যার চাপ বাড়ায় নগরজীবনে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা সরকারের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহরাঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে রাজধানীসহ দেশের শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে মানুষের শহরমুখী প্রবণতা কমানোর কথাও বলেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

দেশের আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলা এবং সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে পরিকল্পনাগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নাগরিকদের আবাসন অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরি এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন