চীনের সহায়তায় দেশে ছোট পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোগ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বা ছোট আকৃতির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান যাচাই শুরু করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এরই অংশ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের (সিইইসি) একটি বিশেষজ্ঞ দল জামালপুরের মাদারগঞ্জের চর এলাকা পরিদর্শন করেছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর এমন একটি আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, যার প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা সাধারণত ৩০০ মেগাওয়াট বা তার কম। প্রচলিত বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এসব রিঅ্যাক্টর আকারে ছোট এবং কারখানায় তৈরি বিভিন্ন মডিউল ব্যবহার করে তুলনামূলক সহজে স্থাপন করা যায়।
বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের তথ্য অনুযায়ী, এসএমআর স্থাপনের জন্য চীনা প্রতিনিধি দলকে মোট চারটি সম্ভাব্য স্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে মাদারগঞ্জের একটি স্থান পরিদর্শন করেছে দলটি। পর্যায়ক্রমে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতেও সম্ভাব্য আরেকটি স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসএমআর প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিপিডিবি ইতোমধ্যে সিইইসির সঙ্গে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার ছোট ও মাঝারি আকারের পারমাণবিক মডিউলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভাব্য স্থানগুলোর কারিগরি ও ভৌগোলিক সক্ষমতা যাচাই শেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের অগ্রগতি ও উৎপাদনে যাওয়ার সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিডিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে বিপিডিবির কাছে বর্তমানে পরিষ্কার তথ্য নেই।
রূপপুরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বা শুল্ক কত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ধারণা পায়নি বিপিডিবি।
চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিইইসি) চীনা সরকারের মালিকানাধীন একটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ও চীনেই বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের ছোট মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি চালু রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তুলনামূলক আধুনিক ও কম কার্বননির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ এসএমআর প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের পরই দেশে এ ধরনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)