Logo
×

Follow Us

জাতীয়

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

সংগৃহীত ছবি

 

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে এই পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়।

এর আগে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বহরটি রওনা দেয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল র‍্যাপিড ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ডগ স্কোয়াড ও এপিবিএনের সদস্যরা যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন। রূপপুরে পৌঁছানোর পর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বহরটিকে স্বাগত জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মাথায় রেখেই আগাম জ্বালানি আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ব্যবধানে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করতে হবে।

দেশের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বুধবার এনপিসিবিএলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভালভটির মেরামত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে উৎপাদনে যাবে ইউনিটটি। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রাশিয়া ঋণসহায়তা হিসেবে দিচ্ছে প্রায় ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েলের প্রথম চালান দেশে আসে। ওই চালান গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের যুগে প্রবেশ করে এবং বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়।

মন্তব্য করুন