‘দাবার বোর্ড’ নয়, নিজেদের স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতি চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ‘দাবার বোর্ড’ হতে চায় না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সমতা, সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চায় ঢাকা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দেশ মাথা উঁচু করে নিজের শর্তে বিশ্বের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকবে দেশের জনগণের স্বার্থ।
উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংকটে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ওই সময় উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কর্মরত ১৪ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, এমন অভিজ্ঞতার পর অর্থনীতি, কূটনীতি ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টি সরকারের নীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির গুরুত্ব এখন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নতুন উৎস ও ক্ষেত্র থেকে জ্বানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজি সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে এসব খাতে অনুসন্ধান শুরু করেছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে নাগরিকদের জ্বালানি ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বিষয়টিতে সহযোগিতামূলক ও সংবেদনশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সাথে অংশীদার, বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা চলছে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসনের কার্যকর পথ তৈরি করা যায়।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিচ্ছেন। আগামী ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)