সুদের চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা: গভর্নর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা
ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন খাতে স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজশাহী নগরের ভেড়িপাড়ার মোড়ের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভাটির আয়োজন করা হয়।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চ সুদে ব্যবসা পরিচালনা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে তুলনামূলক কম সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী, চেম্বার নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যাংকাররা অংশ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার সভায় সভাপতিত্ব করেন।
৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা
তরুণদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেয়া উৎসাহ ও অংশগ্রহণকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি স্কিম নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান গভর্নর। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাই করে মোট ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
গভর্নর জানান, ‘উদ্যোগ’ স্কিমটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে এর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষকদের জন্য বিকল্প জামানত
কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিকল্প জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান মোস্তাকুর রহমান। জমি বা অন্য স্থাবর সম্পত্তিকে প্রচলিত জামানত হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে বিকল্প জামানতের মাধ্যমে প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে ৩ হাজার কোটি টাকার আরেকটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। তার মতে, কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো কৃষি-মূল্যশৃঙ্খলকে কার্যকর করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)