বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ছবি: বঙ্গভবন
জ্বালানি নিরাপত্তা, এলএনজি আমদানি, বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান হাইকমিশনার এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর করেন। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা প্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি (টিআইএফএ)–সংক্রান্ত বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি পেশায় বাংলাদেশি কর্মীদের অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সাথে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ করে কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বৃত্তি ও শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত বাড়ানোর বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)