প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
সংগৃহীত ছবি
দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়ানো ও প্রযুক্তিসেবা মানুষের কাছে আরো সহজলভ্য করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে। এ জন্য করনীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এ আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।
ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুফল যেন সরাসরি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নির্ধারণের জন্য সংলাপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ও সঞ্চালনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ। পরে মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি নিয়ে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার। তারা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। বিএইআর সামিটসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি দেশের প্রযুক্তি মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করে তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নতুন শিক্ষাপদ্ধতি মূলধারায় প্রয়োগের আগে সেগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সংলাপ শেষে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সাথে নিয়ে প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)