রূপপুরের ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গোকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিলনা পাকিস্তান
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবিঃ সংগৃহীত
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটির গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি আসেনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানটি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি, কারণ পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রী বলেন, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বাংলাদেশের জানা নেই। নতুন করে জ্বালানি পরিবহনের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় ছিলেন। পরে রূপপুর প্রকল্পে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আকাশপথের জটিলতার বিষয়টি বাংলাদেশকে জানান।
তিনি বলেন, এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো হয়নি। নতুন করে পরিবহনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে। তবে কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ বিমানটির আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাছেও নেই।
রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এএনআই যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ওই জ্বালানিতে ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ভারী কার্গো বিমানে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনার পর বিশেষ নিরাপত্তায় ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়।
জ্বালানি পরিবহনের সময় ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই পরিবহনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)