Logo
×

Follow Us

জাতীয়

কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: পিআইডি

কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সুরক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি কৃষকদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সম্মান ও উৎসাহ দিতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানের জন্য ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান।

তিনি কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। একই সাথে কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি দেশের অন্যতম ইতিবাচক খাত। কৃষকের শ্রম, উচ্চফলনশীল জাতের উদ্ভাবন, কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে দেশে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কৃষকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে কৃষিপণ্য সহজে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে কৃষকদের আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও কৃষকদের উন্নয়নে সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের সুযোগসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল শিগগিরই কৃষকেরা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাতে কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ, কৃষক দিবস পালন, জাতীয় পর্যায়ে কৃষক পুরস্কার, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব এবং বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহের বিষয়টিও প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এসব পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি বাড়াতে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া কৃষিপ্রক্রিয়াজাত শিল্প, আধুনিক হিমাগার এবং খামারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এনজিও থেকে নেয়া কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে মেলার আয়োজনের কথা জানান। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানালে মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন