আধুনিক বন্দর ও দক্ষ নাবিক গড়তে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ : নৌপরিবহন মন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবিঃ বাসস
আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বা আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে নিরাপদ জাহাজ, আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন বন্দর, দক্ষ নাবিক, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই নৌবাণিজ্য নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সফলতা নির্ভর করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে সরকার কাজ করছে।
বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয়করণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য খালাসের সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সাথে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানো এবং পতাকাবাহী ও বন্দর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাবিকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ রোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচলেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ ও নীল অর্থনীতির বিকাশের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ একক কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ একক কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতার চাহিদা পূরণে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা বন্দরটি প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ থেকে ১০ হাজার একক কনটেইনার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বড় জাহাজ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।
মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে দেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে সমুদ্র, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, হংকং আন্তর্জাতিক নৌ-চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে। আরো ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান বজায় রেখে এ শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগও তুলে ধরা হয়।
জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার ‘সবুজ নৌযাত্রা ২০৫০’ কর্মসূচির সহায়তায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কম-কার্বন জ্বালানি, জ্বালানি সাশ্রয়, বন্দরে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে ১৫টি সামুদ্রিক একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি সামুদ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, সামুদ্রিক প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে দেশের সামুদ্রিক একাডেমিগুলো থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এ ছাড়া সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্ধার ও সমন্বয় কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানানো হয়। অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল নিবন্ধন ও অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও তুলে ধরা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)