১,৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যটন খাতকে পরিকল্পিতভাবে বিকশিত করতে সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানের পাহাড়, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলং, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনা, হাওর, নদ-নদী ও সবুজ প্রকৃতি দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করেছে। মানুষের আতিথেয়তা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও বাংলাদেশকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। তাঁর মতে, পর্যটন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে পর্যটন খাতও বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন ও পর্যটনসেবার ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। এ কারণে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে তিনি সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ, আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম সম্প্রসারণে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির চলমান উন্নয়ন পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা চালু হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো আরো সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন খাতের ডিজিটাল ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)