বিশ্বমানের পর্যটন গড়া সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের খাতে পরিণত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন কেবল বিনোদন বা অবকাশযাপনের মাধ্যম নয়; কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির প্রসার এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার পর্যটনসেবা আরো সহজ, নিরাপদ, বিস্তৃত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যটনকে আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, আইন ও নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে ৩০টির বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সাথে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ আরও সহজ করার পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্যে পর্যটনশিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সাথে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনের বিকাশকে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশকে নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)