পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্বে অবহেলা ও ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের সাথে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) দেয়া হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। জনগণ একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে, তাই পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পুলিশের সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরো জোরদার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি পুলিশ সদস্যদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির ঘটনাও রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব বিষয়ে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই সাথে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো অভিযোগ করেন, পুলিশের কিছু সদস্য গোপনে তথ্য সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে সহযোগিতা করছেন—এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। অনেক সদস্য তখন বাধ্য হয়ে অবৈধ নির্দেশ পালন করেছেন। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না।
তিনি আরও বলেন, এক মাসে ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না। ওই ঘটনার জন্য তারা এখনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর বর্তমান সরকারের ভিত্তি শক্তিশালী। তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত পুলিশের সবার প্রতি সরকারের বার্তা একটাই—রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)