Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য দরজা উন্মুক্ত। আস্থা, নীতির পূর্বানুমেয়তা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।

বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশ নেয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ওয়াল স্ট্রিটের একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেমন তাঁদের প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি তার দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের লক্ষ্য সফলতা নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। আর বিনিয়োগকারীদের সামনে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।

তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, বড় ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এসবের বাইরেও দেশের অর্থনীতিতে নতুন নতুন বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ আরো সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সংস্কার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেয়ার সুযোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সাথে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদারে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি করেছে। একই সাথে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা একটি দেশের বক্তব্যের চেয়ে বাস্তবে পরবর্তী সময়ে কী ঘটে, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিবিধানের পূর্বানুমেয়তা, মূলধনের নিরাপদ ও কার্যকর স্থানান্তর এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করাকে সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের পরিবর্তে উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করবে—এমন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়। ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।

বিনিয়োগকারীদের সাথে সরকারের সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। তাঁদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য হিসেবে আরো বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করা, তাদের মতামত শোনা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবসার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার প্রস্তুত। একই সাথে শিগগিরই আরো বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন