Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পিএম

ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সংঘাতের বদলে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত’ হয়েছে। তার দাবি, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণকে সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানান তিনি।

দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’—এই তিন স্তম্ভের ভিত্তিতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল নিয়েছে। এর লক্ষ্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা।

ভাষণে তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন এবং প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য করুন