ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০ দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় ১২ থেকে ১৮ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বড় ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। একই সাথে পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সবুজ শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে প্যারিস চুক্তির ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমে পূর্বানুমেয় ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।
তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে সবার প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে ন্যায়সংগত জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সবশেষে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)