ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বিবেচনায় ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন ভাড়ার হার নির্ধারণ করে ২২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। একই দিন থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে এ হার ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার বাস-মিনিবাসের ভাড়াও প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এসব পরিবহনের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা।
নতুন কাঠামোতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত দূরত্বের ভাড়া সর্বনিম্ন হারের চেয়ে কম হলেও যাত্রীকে এই ন্যূনতম ভাড়াই দিতে হবে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৪(২) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে গত ২৩ এপ্রিল জারি করা ভাড়াসংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপন ও আদেশগুলো রহিত করা হয়েছে।
তবে নতুন ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসবে না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসনসংখ্যা কমিয়ে কোনো বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে ভাড়াও আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষকে বিআরটিএর যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। বেশি ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট মালিক, চালক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
ভাড়া সমন্বয়ের কারণ হিসেবে ডিজেলের পাশাপাশি যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তনকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। নতুন ভাড়া কার্যকর করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, ডিটিসিএ, বিআরটিসি, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)