বিশ্বমঞ্চে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
ছবিঃবাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের প্রথম দিনেই ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে তুলে ধরাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তার বিভিন্ন কর্মসূচি ব্যক্তিগত, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে আলোচনায় বিভক্ত ছিল।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেয়া বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে আয়োজিত প্রাতঃরাশে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
দিনের কর্মসূচিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সাথে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সাথেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।
হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং হাইতিতে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সাথে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বুধবার বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারও আলোচনায় আসে।
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং মেটার সাথে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে মেটার সাথে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। এতে বাংলাদেশে মেটার বিপুল ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রথম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনাতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)