জাতিসংঘ সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবিঃ পিএমও
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর সেখানে পৌঁছানোর পর থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশ্বনেতাদের সাথে বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। সফরকালে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। পরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। একই দিনে ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সাথেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বৈঠক ও সাক্ষাৎ রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নেয়া বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন।
২৩ সেপ্টেম্বর মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। জলবায়ু মোকাবিলা ও ন্যায্য রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বক্তব্য দেবেন তিনি।
এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জলবায়ু ইস্যুতে আরো কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেবেন তিনি। এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রারম্ভিক বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আরও কয়েকজনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার পর বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদরদপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)