জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
ছবিঃ বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন তিনি।
সোমবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, দেশের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব—এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী তার জাতিসংঘের ভাষণে তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দীর্ঘ সময় পর এমন সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আমন্ত্রিত হয়ে তার অংশগ্রহণও তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান, স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবেন।
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র। তার এই সফর অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশ সংক্ষিপ্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যাতায়াতের সময় বাদ দিলে নিউইয়র্কে চার কর্মদিবস অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরসঙ্গীদের সংখ্যা নিয়েও বিস্তারিত জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এবার প্রচলিত বড় বহরের পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে নিউইয়র্কে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিকভাবে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ৩৫ জন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় গণমাধ্যমকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে রয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে যোগ দেবেন তিনি। পরে সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সফরের প্রধান উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেয়া। ফলে আলাদাভাবে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ সীমিত।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)