নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী , ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন জাতিসংঘে
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ এএম
ছবিঃ পিএমও
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি নিউইয়র্কে অবতরণ করে। তার সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে তাকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নেয়া হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে এই হোটেলেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা বিএনপি নেতা-কর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানবন্দর ও হোটেল এলাকায় জড়ো হন। ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাধারণ পরিষদে ভাষণ, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা। ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সাথে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন তিনি।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)