Logo
×

Follow Us

জাতীয়

কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে নিতে এনবিআরের পরিকল্পনা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে নিতে এনবিআরের পরিকল্পনা

কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে নিতে এনবিআরের পরিকল্পনা

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে করের আওতা বাড়ানো, পরিপালন নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এনবিআরের প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামোর অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ‘ওয়ান এনবিআর’। এর আওতায় আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসকে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে সমন্বিতভাবে করদাতা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। করদাতার তথ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সরকারি ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

এনবিআর জানিয়েছে, শুধু করের হার বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। এজন্য নতুন করদাতা শনাক্ত, করের আওতা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বেশির ভাগ সময় ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এটি প্রায় ১০ শতাংশে উঠলেও পরবর্তী সময়ে কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুপাত ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এ অনুপাত নিচের দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, গত ২৫ বছরে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৭ গুণ বাড়লেও সংস্থাটির রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ গুণ। ২০০১-০২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ফলে সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সংস্কার পরিকল্পনায় প্রতিটি করদাতার জন্য স্বতন্ত্র মাস্টার ডেটাবেজ, অভিন্ন ডেটা ডিকশনারি, সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট, মামলা ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনা, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার তথ্য যাচাই এবং কর পরিশোধ ও বকেয়া রাজস্বের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির কথা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, মানবসম্পদ, সুশাসন ও করদাতা সেবা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে কর পরিপালন বিশ্লেষণ, আগাম পূরণ করা রিটার্নের পরিধি বাড়ানো, কম ঝুঁকির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অর্থ ফেরত এবং কর ফাঁকি ও জালিয়াতি শনাক্তে উন্নত বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কাস্টমসের ক্ষেত্রেও আমদানি-রপ্তানিকারকের তথ্যের সাথে পণ্যের মূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর ঝুঁকির তথ্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এনবিআরের পরিকল্পনায় রাজস্ব নীতির মাধ্যমে শিল্প ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। এর আওতায় কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির শুল্ক কমানো, কৃষি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট সুবিধা, বিভিন্ন খাতে কম আয়কর হার, কাস্টমস অটোমেশন এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব সুবিধার আওতায় কৃষি, তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, এসএমই, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ওষুধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।

 

মন্তব্য করুন