জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ছবিঃ পিএম ও
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা ৫ মিনিটে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর তাঁর নিউইয়র্ক পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
নিউইয়র্ক সফরের শুরুতে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। একই দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু বৈঠকগুলোতে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয় গুরুত্ব পাবে।
এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর একটি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা বিষয়ক। সেখানে সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা রয়েছে।
অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথেও বৈঠক করবেন তিনি।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম ভাষণ এবং বর্তমান সরকারেরও এ বৈশ্বিক ফোরামে প্রথম অংশগ্রহণ।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)