Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সরকারের গ্যাস উৎপাদনে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

সরকারের গ্যাস উৎপাদনে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট

সরকারের গ্যাস উৎপাদনে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট

দেশের বাড়তে থাকা গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ছয়টি কূপ খনন এবং আটটি স্থগিত কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বাসসকে জানান, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি জানান, নতুন আরও নয়টি কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল। দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বিজিএফসিএল তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা—এই ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে।

নতুন গ্যাসের সম্ভাবনাময় কাঠামো শনাক্ত করতে বিভিন্ন এলাকায় সাইসমিক জরিপও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ ও আশপাশে ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে। পাশাপাশি তিতাসের উত্তর-পশ্চিম ও নরসিংদীর উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খনন শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ২০২৬ সালের ১৯ জুন। কূপটি থেকে বর্তমানে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের সাথে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনের সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ সম্পন্ন করে। কূপটির মাপা গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার এবং প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার।

গ্যাস উৎপাদন আরো বাড়াতে বর্তমানে তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজও এগিয়ে নিচ্ছে বিজিএফসিএল।

মন্তব্য করুন