Logo
×

Follow Us

জাতীয়

৬৪ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম

৬৪ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের

ছবিঃ বাসস

কৃষকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অক্টোবর মাসের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় নন-ইউরিয়া সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৪ সেপ্টেম্বরের বরাদ্দসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, জেলা ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলার টিএসপি সারের চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন। তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। চাহিদার সমপরিমাণ সারই বরাদ্দের আওতায় রাখা হয়েছে।

বরাদ্দের মধ্যে টিএসপির পুরো ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। ডিএপির ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টনের মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। এমওপির ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টনও জেলাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এবারের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয়ভাবে একই পরিমাণ সার বরাদ্দ না দিয়ে প্রতিটি জেলার কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক বেশি সার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

টিএসপি সারের ক্ষেত্রে ঢাকায় ৭৪০, নারায়ণগঞ্জে ৮৪০, মুন্সীগঞ্জে ৮৯৬, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৬৮৪, নরসিংদীতে ১ হাজার ৪৮৭, টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৪৫০, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯০০ এবং কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরসহ কৃষিনির্ভর জেলাগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এমওপি সারের ক্ষেত্রে বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৪০, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৯৬০, পাবনায় ২ হাজার ৪৮৩, নওগাঁয় ২ হাজার ২৬৯, নাটোরে ১ হাজার ৯০০ এবং ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিএপির ক্ষেত্রেও বিএডিসি ও বিসিআইসির মাধ্যমে জেলার চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুধু মাসভিত্তিক বরাদ্দ নয়, রবি ও বোরো মৌসুমের জন্য আগাম আমদানি ও মজুতের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ দুই মৌসুমে মোট সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, যা চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন বেশি।

সার আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির কথা রয়েছে। এর আগে আগস্টেও বিভিন্ন উৎস থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন মজুত ছিল। একই সময়ে পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।

সার সরবরাহ ও বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের মনিটরিংও জোরদার করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সার বিধি অনুযায়ী ডিলারদের মধ্যে উপ-বরাদ্দ, আগের মাসের সার উত্তোলনের তথ্য সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বাসসকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় কত সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছাবে—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খানও বাসসকে জানিয়েছেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের চাহিদার ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে এবং অক্টোবরের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন