ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ, লাগবে ১৫ শতাংশ ভোট
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন পরিচালনা সহজ করতে নির্বাচন বিধিমালায় এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের জামানতও ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সাথে জামানত ফেরত পেতে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেতে হবে। বর্তমানে এ সীমা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনি অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতাও ইসির হাতে দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতোই যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।
২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন বিধানগুলো যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ইসিতে এসেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের নির্বাচন বিধিমালাতেও পৃথক সংশোধনের প্রস্তুতি চলছে।
ইসি সূত্রের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবার নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থীসংখ্যা বৃদ্ধি, ভোটগ্রহণ ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জামানত ও ব্যয়সীমায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তবে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে আর্থিকভাবে কম সক্ষম কিন্তু যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এতে প্রার্থিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)